![]()
বাবা মৃত্যুর আগে একটি উইল করে গেছেন এবং তার উইলে অনুযায়ী তার দ্বিতীয় সন্তানের পিতৃ পরিচয় ডেএনএ টেষ্টের মধ্যে দিয়ে নিশ্চিত হয়ে তাকে তার সম্পত্তির ভাগ দিতে হবে। যদি সে অন্য কোন পুরুষের সন্তান হয় তবে তাকে বিয়ে না করলে তার প্রাপ্য সম্পত্তি দাতব্য সংস্থায় চলে যাবে।
বুঝাই গেলো বাবা আমার আর মায়ের সম্পর্কের কথা জেনেই ন উইল করেছেন আমাদের বিপদে ফেলতে। উকিল জানিয়ে দিলো আগামিকাল লোকজন আসবে নমুনা সংগ্রহের জন্য। আমরা উকিলকে বললাম এসব আটকানোর কোন উপায় আছে কিনা, সে সোজা জানিয়ে দিলো সব এখন কোর্টের হাতে। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের নমুনা জমা দিতে হলো এবং কয়েকদিন পরই সব সত্য বাইরে বেরিয়ে গেলো। আমাদের ভাগ্য ভালো এসব তথ্য বাইরে ফাঁস হয়নি, তবে কোর্ট থেকে আমাদের এক সপ্তাহ সময় দেয়া হলো বিয়ে করার জন্য। আমাদের উকিল একজন বিধর্মী, সে বললো বিয়ে করে সম্পত্যি নিজের করে নিতে। তবে আম্মু লোকলজ্জা এবং সম্মানহানির ভয়ে কি করবে বুঝতে পারছিলো না, অন্যদিকে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ হাত ছাড়া হবে তাও মেনে নেয়া যাচ্ছিলো না। তখন আমরা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা বিয়ে করবো। কারণ আমাদের অঞ্চলে এটা বৈধ, তাই তেমন সমস্যা হবে না।
গত পর্বে আমাদের বিয়ে কিভাবে হয়েছিলো তা বলেছিলাম, তাই সে কথা আবার বলছি না। তবে বিয়ের পর আমাদের জীবনে নতুন মোর এলো। আমাদের বিয়ে হবার পর সেদিনই কোর্টে আমাদের সব কাগজপত্র জমা দেয়া হলো এবং রায় আমাদের পক্ষে আসলো। আমরা বেশ আনন্দের সাথে বাড়ি পৌছালাম। আমাদের বাসার সামনে নাম ফলকে মিস্টার জহির এন্ড মিসেস জহির লিখা ছিলো, আমাদের উকিল সেটা খুলে মিস্টার ইসহাক এন্ড মিসেস ইসহাক লিখা ফলক ঝুলিয়ে দিলো। আমাদের সন্তানের জন্ম নিবন্ধনে পরিবর্তন এলো, বাবার নামে যোগ হলো আমার নাম। আম্মুর পরিচয় পত্রে স্বামীর নাম পরিবর্তন করে আমার নাম দেয়া হলো।